প্রচ্ছদ > বিনোদন >

জীবনসঙ্গী চাইনি বিদ্যা বালান, তবুও কেন বিয়ে করলেন জানালেন অভিনেত্রী

article-img

জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান একজন অত্যন্ত শক্তিশালী নারী প্রধান চরিত্রের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। তার সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে তেমনটিই দেখা যায়। ২০২৪ সালে 'ভুল ভুলাইয়া ৩' বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। 

বর্তমান প্রজন্মের মেয়েরা বিয়েতে অনীহা প্রকাশ করেন কেন? এর নেপথ্যে কারণ কী সে কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বিদ্যা বালান বলেছেন, জীবনের একটা পর্যায়ে এসে তিনিও তেমনটিই মনে করতেন। একসময় তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বিয়ে নারীদের ঘরোয়া করে দেয়।

বিদ্যা বালান বলেন, আমি কোনো দিন জীবনসঙ্গী চাইনি। কারণ আমার মনে হতো— বিয়ে করলে নারীদের স্বাধীনতা হারিয়ে যায়। তারা ভীষণভাবে ঘরোয়া হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আমি প্রেম-ভালোবাসায় থাকতে চাইতাম। কিন্তু সাতপাকে বাঁধা পড়ার ইচ্ছে হতো না। তবে সিদ্ধার্থের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর আমার সেই ধারণা বদলে যায়। সিদ্ধার্থের সঙ্গে সম্পর্কটা তার কাছে কেবল আইনি বন্ধন নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি জায়গা বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

অনেকেই মনে করেন, এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়াটা বেশ ঝক্কির। যেহেতু মেয়েদের নিজের বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়, সে ক্ষেত্রে অদৃশ্য কিছু নিয়ম, দায়দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই তাদের ঘাড়ে এসে পড়ে। তাই বিয়ের পর নারীরা অদ্ভুতভাবেই সংসারী হয়ে পড়েন। আপনি চাইলেও এমন অনেক কিছু করতে পারেন না, যা অবিবাহিত অবস্থায় তিনি সহজেই করতে পারেন। হয়তো সে কারণেই বিয়ের প্রতি অনীহা জন্মাচ্ছে নারীদের। 

এ বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, বিয়ে তো শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে থাকা নয়; বরং সামাজিক ও মানসিক অনেক রকম পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখাও। তারা বলেন, বিদ্যা বালানের এই চিন্তা বর্তমানে বহু স্বনির্ভর এবং ক্যারিয়ার-সচেতন নারীর মনের কথা। এর নেপথ্যে কাজ করে কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। সেগুলো হচ্ছে—

১. বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়। এটাই সমাজের নিয়ম। অদ্ভুতভাবেই সবাই ভেবে নিতে শুরু করেন, নতুন পরিবারের সব দায়দায়িত্ব নতুন মানুষটির ওপর বর্তায়। শ্বশুরবাড়ির ভালোমন্দের দায়ও তার। স্বাভাবিকভাবেই নতুন সদস্যদের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে পারেন না নারীরা। ক্রমে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার ভয়ও জেঁকে বসে।

২. নারীরা যে ঠিক বিয়ের বিরোধী, তেমনটি নয়; বরং তারা বিয়ের ‘বাঁধাধরা’ ছকের বিরুদ্ধে। তারা চান এমন একজন সঙ্গী, যিনি তাকে সারাক্ষণ নিজের সম্পত্তি ভেবে ‘দখল’ করে রাখবেন না। বরং তার পাশে ‘অংশীদার’ হিসেবে থাকবেন।

৩. বর্তমান প্রজন্মের নারীরা সমমর্যাদা ও আত্মোন্নতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই বিদ্যার মতো অনেকেই বিয়ের সংজ্ঞা নিজেদের মতো করে পুনর্নির্মাণ করার সাহস দেখিয়েছেন।

মনোবিদরা আরও বলেন, একটা বয়সের পর নারীদের আবার সেই ধারণায় বদল আসতে শুরু করে। যখন কোনো নারী এই অনীহা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে ‘আপস’ বলে দাগিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। বরং এটি মানসিক পরিপক্বতার লক্ষণ। এর অর্থ হচ্ছে— ওই বয়সে দাঁড়িয়ে সেই ব্যক্তি বিয়েকে কোনো ‘প্রতিষ্ঠান’ নয়; বরং স্বাভাবিক একটি ‘সম্পর্ক’ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। যেখানে ব্যক্তিগত সীমারেখা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানসিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়।